প্যারা টিচারদের মুখে এখন আশার আলো। দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার নিয়ে এসেছে একগুচ্ছ সুখবর। বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পদোন্নতি— একাধিক প্রস্তাবনা পেশ হয়েছে নবান্নর তরফে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত — প্রাইমারি স্তরের প্যারা টিচারদের এবার আপার প্রাইমারিতেও নিযুক্ত করার ভাবনা চলছে। এর ফলে তাদের বেতন কাঠামো সহকারী শিক্ষকদের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বহুদিনের বেতন বৈষম্যের অভিযোগ এবার অনেকটাই কাটতে চলেছে।
শুধু তাই নয়, মহিলা প্যারা টিচারদের জন্য থাকছে চাইল্ড কেয়ার লিভ-এর বিশেষ সুবিধা। এখন থেকে তাঁরা পেতে পারেন ৭৩০ দিন অর্থাৎ প্রায় দু’বছরের ছুটি, যা মাতৃত্বকালীন ভারসাম্য রক্ষা ও সন্তান প্রতিপালনে অনেকটাই সহায়ক হবে। আরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব— প্রতিটি স্কুলের স্টাফ কাউন্সিলে অন্তত একজন প্যারা টিচারকে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এতে প্রশাসনিক অংশগ্রহণ বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্যারা টিচারদের মতামত গুরুত্ব পাবে।
এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তাদের পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে, যদিও এখনও সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার রায় এই সমস্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেও তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজ্যের হাজার হাজার প্যারা টিচারের জন্য এটি এক নতুন ভোর। বহুদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার পর অবশেষে আসতে চলেছে সম্মান ও স্বীকৃতি। এখন শুধু অপেক্ষা, সিদ্ধান্তগুলির দ্রুত রূপায়ণের।