সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এই সিদ্ধান্তে শুধু অর্থনৈতিক চাপই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চীন প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং এক কড়া বার্তায় বলেন, “যে ধমকানো মানুষকে এক ইঞ্চি ছাড় দেয়, সে এক মাইল দখল করে নেয়।” তাঁর মতে, অন্য দেশকে দমন করার জন্য শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও WTO-র নিয়মের লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই নীতি জনপ্রিয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক। অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ভারতকে সমস্যায় ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আমেরিকাই। কারণ গত একশো বছরে এত বড় শুল্ক চাপানোর নজির নেই।
এই শুল্কের ফলে আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষকে বছরে গড়ে ২ লাখ টাকার মতো অতিরিক্ত খরচের বোঝা বইতে হবে।ভারতের জন্য বিপদ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকও। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক দুর্বল হলে, এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ভারতের রপ্তানি কমলে ডলারে আয় হ্রাস পাবে, যার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানেও।এছাড়াও চীনের প্রভাব ঠেকাতে গঠিত কোয়াড জোট, যেখানে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, সেই কৌশলগত জোট থেকেও ভারত কার্যত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্পের এই শুল্কনীতি শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক কৌশল এবং বিশ্ব রাজনীতির ওপরও। সময় বলবে, এই বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে কে আসল জয়ী হয়ে উঠবে।