বিদ্যাসাগরের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে চলছে অবৈধ সংস্কার! আবেগে গাঁথা শৈশবের স্মৃতি বাঁচাতে প্রাক্তনীরা হাতে তুলে নিয়েছেন উদ্যোগ, কিন্তু প্রশাসনের চোখে সেটাই এখন বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত! প্রশ্ন উঠছে—স্মৃতির ভার টানতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে না তো এক ভয়ঙ্কর মৃত্যুফাঁদ?
১৮৫৬ সালে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারদা প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় বহু প্রজন্মের শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে। সম্প্রতি সরকারের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নতুন ভবন। কিন্তু প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আবেগ আটকে রয়েছে সেই ইতিহাস প্রাচীন পুরোনো ভবনের গায়ে—যার প্রতিটি ইট যেন একেকটা জীবন্ত স্মৃতি।
Read more – উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম বর্ধমানের রূপায়ণ, ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়
সেই স্মৃতি বাঁচাতেই নিজেদের অর্থে, নিজেদের উদ্যোগে ভবনটির সংস্কার শুরু করেছেন স্কুলের একদল প্রাক্তনী। কেউ ডাক্তার, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী—সকলেই জড়ো হয়েছেন সেই পুরোনো স্কুলবাড়ির পাশে, হাতে হাত মিলিয়ে জোড়াতালি দিচ্ছেন স্মৃতির গায়ে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—এই কাজ চলছে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই, আর সেটাই রীতিমতো বিপদের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
জামালপুরের বিডিও বলেন, “ওনারা একবার এসেছিলেন। আমি বর্ধমান থেকে ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা পরিদর্শন করে জানিয়েছেন—এই ভবনটি বিপজ্জনক। শুধুমাত্র সংস্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, কাঠামোগত দুর্বলতা থেকেই যাবে। ফলে ভবিষ্যতে এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না”।

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে কেউ যদি নিজ উদ্যোগে কাজ করান, কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়াই, তবে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সম্পূর্ণ তাঁদের উপরেই বর্তাবে”। এই একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন জামালপুর এসআই-ও। তাঁর কথায়, “এই কাজের কোনও অফিসিয়াল অনুমতি নেই। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। ভবিষ্যতে যদি কিছু ঘটে, আইনি ব্যবস্থা নিতে আমাদের বাধ্য হতে হবে”।
তবে সব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কাজ চলছে জোরকদমে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভিত শক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। দেওয়ালে লাগানো হচ্ছে নতুন সিমেন্ট, বদলানো হচ্ছে কাঠামোর কিছু পুরনো অংশও।