গলসি সরকারি যোজনা দক্ষিণবঙ্গ উত্তরবঙ্গ ক্রাইম আবহাওয়া কৃষি কাজ বিনোদন স্বাস্থ্য টেকআড্ডা কর্ম-খালি দেশ-বিদেশ মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

শুধু অভিনয় নয় , প্রযোজনাতেও বাজিমাত ঋতুপর্ণা-র

Published : July 4, 2025
---Advertisement---

২০২৫ সালের প্রথম ছ’ মাসে বাংলা ছবির বাজারে ফিরেছে নতুন জোয়ার। বহুদিন পর টলিপাড়ায় এমন রঙিন ছবি দেখা গেল—যেখানে দর্শকও আছেন, ব্যবসাও আছে, আর আছে গল্প বলার সাহস। এই বছরের সবচেয়ে বড় ব্লকবাস্টার — ‘দ্য একেন: বেনারসে বিভীষিকা’। গোয়েন্দা কাহিনি আর হিউমারের নিখুঁত মিশ্রণে দর্শক আবার হলমুখী হয়েছেন। শুধু শহরেই নয়, মফস্বলেও একেন বাবুর এই মিশন দারুণ সাড়া ফেলেছে।

তারপর রয়েছে দু’টো সুপারহিট ছবি — নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘আমার বস’, আর সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘কিলবিল সোসাইটি’। আমার বস’ কর্পোরেট দুনিয়ার গল্প হলেও মাটির গন্ধ হারায়নি। আর ‘কিলবিল সোসাইটি’ সাহসী বিষয়ের ছোঁয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে শুরু থেকেই। তালিকায় আরও কয়েকটি নাম যোগ হয়েছে— ‘পুরাতন’, ‘এই রাত তোমার আমার’, ‘সত্যি বলে সত্যি কিছু নেই’ এবং ‘গৃহপ্রবেশ’।

Read more – মুম্বই থেকে গায়ক হয়ে ফিরলেন নীল! কী উপহার দিলেন তৃণা?

ই সাতটি ছবিই জাতীয় স্তরের মাল্টিপ্লেক্সে পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশি ব্যবসা করেছে। বাংলা সিনেমার বর্তমান বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে, এটা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে ‘পুরাতন’।
এই ছবিটি তৈরি হয়েছে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর প্রযোজনা সংস্থা ‘ভাবনা আজ ও কাল’-এর ব্যানারে। পরিচালনায় ছিলেন সুমন ঘোষ, আর অভিনয়ে শর্মিলা ঠাকুর — এটি তাঁর শেষ বাংলা ছবি।

চমক এখানেই নয়। এই ছবির সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ঋতুপর্ণার প্রযোজনা সংস্থাও ঢুকে পড়েছে কোটির ক্লাবে। এই কৃতিত্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, তালিকাভুক্ত সাতটি হিট ছবির মধ্যে পাঁচটি তৈরি হয়েছে টলিপাড়ার দুই নামী প্রোডাকশন হাউস থেকে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘ভাবনা আজ ও কাল’-এর এই উত্থান নজর কাড়বেই। অভিনেত্রী হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বাংলা সিনেমার অন্যতম মুখ। তবে এবার প্রযোজক হিসেবেও তিনি দেখালেন দূরদর্শিতা ও ধৈর্য কীভাবে বড় গল্প তৈরির পেছনে কাজ করে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,“আমি এমন বাংলা ছবির সঙ্গেই যুক্ত হতে চেয়েছি, যেগুলো বছরের পর বছর দর্শকের মনে থাকবে। বাংলা ছবির ইতিহাসে যার গুরুত্ব থাকবে।‘আলো’ কিংবা ‘দত্তা’র মতো ছবির পর, ‘পুরাতন’-ও সেই ধারাবাহিকতায় জায়গা নিয়েছে। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, গুণগত মানের নিরিখেও এটি প্রশংসিত হয়েছে নানা মহলে।

২০২৫-এর প্রথম ছ’ মাস যেন বলে দিচ্ছে—বাংলা ছবি আবার নিজের জায়গা ফিরে পাচ্ছে। আর সেই পথে অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে উঠে আসছে নতুন চিন্তাধারার নির্মাতা ও প্রযোজকরা। যাঁদের কাছে ছবি শুধু বিনোদন নয় — সামাজিক বার্তা, ঐতিহ্য আর ভবিষ্যতের আশার নাম।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now