ভাবুন তো, এমন একটা জায়গা যেখানে বাথটাব, টয়লেট, এমনকি চা খাওয়ার কাপটাও সোনার তৈরি? এটা কোনো রূপকথা নয়, একেবারে বাস্তব! ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের বুকে দাঁড়িয়ে আছে ‘ডলচে হ্যানয় গোল্ডেন লেক’— এমনই এক হোটেল, যা এককথায় বিলাসিতার চূড়ান্ত রূপ।
এই পাঁচতারা হোটেলের দরজা পেরোনোর পর আপনি ঢুকে পড়বেন যেন এক স্বর্ণরাজ্যে। ২০২০ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই হোটেলের প্রায় প্রতিটি জিনিসে রয়েছে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ— বাইরের দেওয়াল থেকে শুরু করে রুমের বাথটাব, বেসিন, শাওয়ার হেড, কেটলি, খাওয়ার প্লেট, চামচ, এমনকি টয়লেট পর্যন্ত সোনা দিয়ে মোড়া!
আর ছাদে?
সেখানে আছে এক বিশাল ইনফিনিটি সুইমিং পুল, যার পাড়েও সোনার প্রলেপ! সূর্যের আলো পড়লে সেই জল ঝলমল করে উঠে এক অভিজাত স্বপ্নের মতো। এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে ভিয়েতনামের হোয়া বিহ গ্রুপ। তাদের দাবি, হোটেলটি বানাতে খরচ হয়েছে অনেক, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বরং কম। কারণ সোনা এমন এক ধাতু— যেটিতে মরচে পড়ে না, ক্ষয়ও হয় না।
বিশ্বের একমাত্র সোনার হোটেল হওয়ায়, পর্যটকদের ভিড় থাকে বছরভর। প্রায় ২০০টি বিলাসবহুল ঘরবিশিষ্ট এই হোটেলে এক রাতের খরচ শুরু মাত্র ২৫০ মার্কিন ডলার থেকে। মানে ভারতীয় টাকায় ২১ হাজার টাকার কিছু বেশি। আর সবচেয়ে বড় কথা, হ্যানয় যেতে কলকাতা থেকেই নন-স্টপ ফ্লাইট পাওয়া যায়।
সোজা তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারেন আপনি এই স্বর্ণজগতে!
হো চি মিনের দেশের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের গল্প যেমন আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে, তেমনই এই সোনায় মোড়া হোটেল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়— বদলানো ভিয়েতনাম কতটা এগিয়ে গেছে। ভিয়েতনাম এখন শুধু ইতিহাস নয়, বিলাসিতার গন্তব্যও বটে!