দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বৃহস্পতিবার রাতে বসেছিল এক বিশেষ নৈশভোজের আসর। কিন্তু এটি শুধুই ভোজের নিমন্ত্রণ ছিল না—এই আসরে হাজির ছিলেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সাংসদরা। মূলত ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কৌশল নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ভোটের আগে এনডিএ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে রাজনৈতিক লড়াই কীভাবে সংগঠিত করা যায়, সে বিষয়ে জোট শরিকদের সঙ্গে কৌশল নির্ধারণ হয়েছে। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী,
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ ও ডিম্পল যাদব, শিবসেনা (উদ্ধব) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, জম্মু-কাশ্মীরের ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি, ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি করুণানিধি সহ আরও অনেকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি।
কারণ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোটের বৈঠকে সাধারণত অংশ নেন না। এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএমের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়েছিল তৃণমূল। সেই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের এই বৈঠকে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের মধ্যে মত বিনিময় হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং রাজ্যস্তরে বিরোধী প্রচার কৌশল নিয়ে। বিজেপিকে মোকাবিলায় এই জোট ভবিষ্যতে আরও কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে, তা সময়ই বলবে।