দিঘা উপকূলে ইলিশ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য মৎস্য দপ্তর এবং দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। এবার থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ডায়মন্ড নেটের পরিবর্তে স্কোয়ার নেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।এর মূল উদ্দেশ্য—খোকা ইলিশ ও ডিমওয়ালা মাছের নিধন রোধ করা এবং সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা করা। কারণ বারবার অভিযোগ উঠেছে, ডায়মন্ড নেট ব্যবহার করার ফলে অনেক খোকা ইলিশ ধরা পড়ে যাচ্ছে, যেগুলো ভবিষ্যতে বড় ইলিশ হতে পারত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিঘায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রণব কর, সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস, কেন্দ্র ও রাজ্যের আধিকারিকরা এবং বিভিন্ন উপকূল অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন মৎস্যজীবী। সভাপতি প্রণব কর জানিয়েছেন—স্কোয়ার নেট পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারে ইতিবাচক ফল মিলেছে। ছোট মাছ ধরা পড়ছে না, ফলে তারা সমুদ্রে বড় হতে পারছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, সংগঠন এই পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আশাবাদী যে মৎস্যজীবীরাও এর সুফল বুঝে গ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় দপ্তরের আধিকারিক অতনু দাস জানিয়েছেন, স্কোয়ার নেট ব্যবহারে শুধু মাছ রক্ষা নয়, ট্রলারের জ্বালানির খরচও ঘন্টায় ১.৫ থেকে ২ লিটার পর্যন্ত কমে যাবে, যা আর্থিক সাশ্রয়ও আনবে। পাপরূপ কোম্পানির কো-অর্ডিনেটর শৈবাল গাঙ্গুলি জানান, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই এই নেট ব্যবহৃত হচ্ছে এবং দেশব্যাপী এই উদ্যোগ চালু হলে তা পরিবেশ রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেবে। জানা গেছে, বৈঠকে প্রতিটি ট্রলার মালিককে স্কোয়ার নেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিঘার ইলিশ মরসুম, অর্থাৎ আগস্ট থেকে অক্টোবর, এখন আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খোকা ইলিশ বাঁচানো গেলে আগামী কয়েক বছরে বড় আকারের ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইলিশ বাঁচলে, মাছের রাজত্ব ফিরবে — আর দিঘা উপকূল ফিরে পাবে তার পুরোনো জৌলুস।