শুক্রবার রাত থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের বন্যার আশঙ্কা। দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে রাত ১১টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি। আর এই জল ছাড়া নিয়ে রাজ্য ও ডিভিসির মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে শুক্রবার রাত ১১টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে ৭০,৪৭৫ কিউসেক জল। নবান্নের দাবি, রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই এই জল ছেড়েছে ডিভিসি, যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তৈরি হচ্ছে বন্যার আশঙ্কা। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের নিচু এলাকায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
ডিভিসির দাবি, ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির ফলে দামোদর ও বরাকর নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়তে হয়েছে। ফলে জল গড়িয়ে পড়ছে নিম্ন দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরীর দিকে, বাড়ছে প্লাবনের আশঙ্কা। বিদ্যুৎ দপ্তর জানিয়েছে, জল বাড়ায় শিলাবতী নদীর দু’ধারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় মেদিনীপুর ও ঘাটালে। তবে গড়বেতা ১ ও ২ নম্বর ব্লক ও চন্দ্রকোনা টাউনে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ঘাটালে চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা।
Read Me – বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরীতে অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, আতঙ্কে এলাকাবাসী
এদিকে, ঝাড়গ্রামের বিনপুর ১ ব্লকের নেপুরা অঞ্চলে ভয়াবহ ঘটনা— কংসাবতী নদী পেরোতে গিয়ে ভেসে গেলেন ৫৫ বছরের এক ব্যক্তি, ক্ষুদিরাম পাতর। বাঁকুড়ার সারেঙ্গা থেকে বলরামপুরে যাওয়ার পথে নদীর স্রোতে তিনি নিখোঁজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শুক্রবার নবান্ন বৈঠকের মাঝেই একাধিক জেলার কর্তাদের ফোনে নির্দেশ দেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যার পর জল ছাড়া কিছুটা কমিয়েছে ডিভিসি, তবে সতর্কতা জারি রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়।