এই বছরের দুর্গাপূজার আগেই কলকাতার তিনটি বড় ও জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপ—বালিগঞ্জ কালচারাল, দমদম পার্ক ভারতচক্র এবং কেন্দুয়া শান্তি সংঘ—এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রথমবারের মতো এই মণ্ডপগুলি মহালয়ার আগেই প্রতিমা দর্শনের জন্য ‘টিকিট সিস্টেম’ চালু করেছে, যা ১৯, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে ৬টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকবে। টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে—একজনের জন্য ১০০ টাকা, দুইজনের জন্য ১৫০ টাকা, তিনজনের জন্য ২০০ টাকা এবং চারজনের জন্য ৩০০ টাকা, যা অনলাইনে কিনতেও পারবেন দর্শনার্থীরা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের যুক্তি, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শান্তভাবে ঠাকুর দর্শনের সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা, এবং পূজোর সার্বজনীনতা এতে বিঘ্নিত হবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শহর জুড়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়।
কেউ কেউ একে আধুনিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে স্বাগত জানালেও, অনেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, বারোয়ারি পুজোর মূল আকর্ষণই ছিল “সবার জন্য উন্মুক্ত”, সেখানে টিকিট চালু করা মানে এক প্রকার বাণিজ্যিকীকরণ ও বৈষম্য তৈরি করা। শহরের আরেক পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষ যেমন বলেছেন, এই ব্যবস্থায় সমাজে একধরনের ভেদরেখা তৈরি হতে পারে—যারা টিকিট কেটে আগেভাগে ঠাকুর দেখবেন, তারা ভিড় এড়াতে পারবেন, আর যারা টিকিট কেটে দেখতে পারবেন না, তারা বাধ্য হবেন ঐতিহ্যগত ঠাসা ভিড়ের মধ্যেই পূজো উপভোগ করতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি পুজো কমিটির জন্য একটি নতুন আয়ের পথ হতে পারে এবং ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে কার্যকরও হতে পারে, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা কলকাতার ‘সর্বজনীন দুর্গোৎসব’-এর পরিচিতি এই টিকিট সংস্কৃতির প্রভাবে আদৌ বদলাবে কিনা, তা জানতে আপাতত সময়ের অপেক্ষা।