দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য এক গুরুতর সতর্কবার্তা—আপনার বিদ্যুৎ বিল আগামী দিনে বাড়তে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে জানানো হয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলির (ডিসকম) জমে থাকা প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার ‘রেগুলেটরি অ্যাসেট’ পরিশোধ করতে হবে। বিচারপতি পিএস নরসিংহ ও অতুল এস চন্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনকে (SERCs) সময়সীমা নির্ধারণ করে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ার নজরদারি করবে APTEL—অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল ফর ইলেকট্রিসিটি।
রেগুলেটরি অ্যাসেট আসলে কী?
এটি মূলত সেই আর্থিক ঘাটতি, যা তৈরি হয় যখন বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোর প্রকৃত খরচের তুলনায় রাজ্য সরকার রাজনৈতিক কারণে কম ট্যারিফ নির্ধারণ করে। ফলে তৈরি হয় বিশাল পরিমাণ বকেয়া, যা পরে গ্রাহকের কাঁধেই চাপানো হয়। এই ঘাটতির ওপর আবার সুদও জমে। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দীর্ঘদিন ধরে এই বকেয়া জমে চলেছে এবং তা কমানোর কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কমিশনের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
গ্রাহকদের জন্য এর প্রভাব কী?
চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেতে এখন বাড়তি দামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। যদিও ট্যারিফ রাতারাতি দ্বিগুণ হবে না, তবে আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হবে। গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক এবং শিল্প—সব ধরনের গ্রাহকই এই বোঝার ভাগীদার হবেন।
এগিয়ে কী হবে?
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলিকে সময়মাফিক রোডম্যাপ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের আর্থিক সংকট আর না তৈরি হয়। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ ট্যারিফের কাঠামো পুনর্বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে। এই রায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও নীতিগত গলদগুলিকে প্রকাশ্যে এনেছে। সাময়িক অসুবিধা হলেও, এই সিদ্ধান্ত দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে টেকসই পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে।