বলিউডের সাহসী কণ্ঠস্বর, স্পষ্টভাষী ও শক্তিশালী অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবার শুরু করেছেন জীবনের এক নতুন অধ্যায়—রাজনীতি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসন থেকে বিজেপির টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণেও ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত তিনি। তবে রাজনীতির এই নতুন জগৎ কঙ্গনার কাছে যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি বাস্তবতাও বিস্ময়কর।
Read More – চিরদিনই তুমি যে আমার-এ খুন হবে আর্য? আসছে বড় টুইস্ট
সম্প্রতি টাইমস নাও-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রাজনীতির অভ্যন্তরীণ খরচ ও বাস্তবতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল শখ।” সাংসদ হিসেবে পাওয়া বেতনের বড় অংশটাই রাঁধুনি, ড্রাইভার ও কর্মীদের বেতন দিতে চলে যায়, ফলে হাতে থাকে মাত্র ৫০-৬০ হাজার টাকা। সাধারণ মানুষের ধারণা, রাজনীতিবিদরা প্রচুর উপার্জন করেন, কিন্তু কঙ্গনার বক্তব্য সেই ধারণায় বড় ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও জানান, মান্ডির মতো দুর্গম এলাকায় সফরের জন্য প্রতিটি ট্রিপে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। এ কারণে তিনি মনে করেন, একজন সৎ রাজনীতিকের সংসদ সদস্য হওয়া একমাত্র পেশা হতে পারে না—অতিরিক্ত আয়ের উৎস থাকা একান্ত জরুরি। তিনি উদাহরণ দেন জাভেদ আখতারের, যিনি সাংসদ থাকার পাশাপাশি নিজের পেশাতেও সক্রিয় ছিলেন।
রাজনীতির ময়দানে নিজেকে এখনও পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি কঙ্গনা। তিনি বলেন, “মানুষ ভাঙা ড্রেন বা খারাপ রাস্তার মতো সমস্যার কথা জানায়—এইসব বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা একেবারেই ছিল না।” সমাজসেবার বাইরের জগৎ থেকে এসে এমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা তাঁর জন্য কঠিন হলেও তিনি দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, কাজের দিক থেকেও থেমে নেই কঙ্গনা। তাঁর শেষ ছবি ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তি পেয়েছে কিছুদিন আগে। সামনে মুক্তি পাবে ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’, ‘ইমলি’ এবং ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র মতো ছবি। এক কথায়, রাজনীতির কাঁটাতারে পা রেখেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ও সৎ পথ ধরে চলার জেদেই এগিয়ে চলেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত।