পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীগুলোর তালিকায় অন্যতম — অ্যামাজন। প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল জলরাশির গতিপথ ছড়িয়ে রয়েছে নয়টি দেশ জুড়ে — ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানায়। শুধু আয়তনে নয়, পরিবেশগত গুরুত্বেও অ্যামাজন নদী ও জঙ্গলকে বলা হয় পৃথিবীর ‘ফুসফুস’।
Read more – আগামী পাঁচ দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা
তবুও, এমন এক বিস্ময়কর তথ্য—এই বিশাল নদীর উপর আজও তৈরি হয়নি একটি সেতুও! শুনতে অবাক লাগলেও, এর পেছনে রয়েছে গভীর কারণ — শুধু প্রযুক্তি নয়, পরিবেশ, প্রকৃতি, আর মানুষের জীবনযাত্রাও এর সঙ্গে জড়িয়ে। অ্যামাজন নদীর ধারে যেসব মানুষ বসবাস করেন, তাদের জীবনযাত্রা এখনো মূলত নদীকেন্দ্রিক। নৌকা, ডিঙ্গি, ফেরি—এই সবই তাদের যোগাযোগের মাধ্যম। রাস্তা বা ব্রিজ তাদের জীবনের অঙ্গ নয়।
ফলে সেতু নির্মাণ, এই অঞ্চলের মানুষজনের বাস্তব প্রয়োজন নয়। তার উপর, অ্যামাজন নদীর কিছু কিছু অংশ এতটাই প্রশস্ত—১০ কিলোমিটার পর্যন্ত—যেখানে সেতু নির্মাণ প্রযুক্তিগতভাবে দারুণ কঠিন এবং আর্থিকভাবে বিশাল ব্যয়বহুল। শুধু প্রশস্ততা নয়, এই অঞ্চলে মাটির চরিত্রও সবসময় বদলায়। বর্ষায় নিয়মিত বন্যা হয়, নদীর পথ বদলায়, তীরে জমি ভেঙে যায়। ফলে কোনো বড় নির্মাণকাজ এখানে টেকসই হবে কি না, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন থেকে যায়।
আর সবচেয়ে বড় কারণ — পরিবেশ। অ্যামাজন জঙ্গল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৃষ্টিবন, যেখান থেকে উৎপন্ন হয় প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন এবং শোষিত হয় বিপুল কার্বন। সেতু বানাতে হলে এখানে রাস্তা কাটা, গাছ কাটা, ভারী যন্ত্রপাতি আনা—সব কিছুই করতে হবে। যার ফলে ক্ষতি হবে জঙ্গল, বন্যপ্রাণী এবং বৈশ্বিক জলবায়ুর। এই কারণেই স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদেরা পর্যন্ত একসঙ্গে বলছেন—অ্যামাজনের উপর সেতু নয়, দরকার সংরক্ষণ।
অ্যামাজন শুধু একটি নদী নয়, এটি একটি জীবন্ত ব্যবস্থাপনা। প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যেকার যে সহাবস্থানের নিদর্শন, তার এক অনন্য উদাহরণ। এই কারণেই, প্রযুক্তি যেখানে চাইলে পারে, সেখানে পরিবেশ আর মানবিক মূল্যবোধ একত্র হয়ে বলে দিয়েছে—‘না’। আর তাই, এত বছরেও অ্যামাজন নদীর বুকে গড়ে ওঠেনি একটিও সেতু।