মাছে-ভাতে বাঙালি—এই কথাটা যেমন চিরকাল সত্য, তেমনই সত্য, বাঙালির পাতে রুই, কাতলা, ইলিশ থাকলেও একটা মাছ দীর্ঘদিন ধরেই থেকেছে অবহেলার কোণে। সেই মাছটির নাম ভোলা ভেটকি। তীব্র গন্ধের কারণে এই সামুদ্রিক মাছকে অনেকেই দূরে সরিয়ে রাখেন, অথচ সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে—এই মাছই হতে পারে ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার আর হার্টের সমস্যার ওষুধ। ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সহজলভ্য ভোলা ভেটকি এমন কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড ও যৌগিক উপাদান বহন করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে এর মধ্যে থাকা ডোকোসাহেক্সেনয়িক অ্যাসিড (DHA) সরাসরি ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় উপকূলবর্তী এলাকার ১২৪ জন মানুষের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—যাঁরা নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবেটিস, গাঁটে ব্যথা, এমনকি ঋতুস্রাবজনিত সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সেখানে মিষ্টি জলের মাছ খাওয়া মানুষের মধ্যে ৩০ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, মিষ্টি জলের ছোট মাছ—যেমন বাটা, ফলুই, মৌরলা—তেও রয়েছে বেশি মাত্রার তেল, যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়াতে পারে। কিন্তু ভোলা ভেটকি, রুলি বা তাপড়ার মতো সামুদ্রিক মাছে কম ফ্যাট থাকলেও, তাতে থাকা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান কার্যকরভাবে ইনসুলিনের কাজ করে। আজ যখন ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস আর কোলেস্টেরল এক ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে, তখন এই ভোলা ভেটকি হতে পারে এক নতুন আশার আলো। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই মাছ থেকে আলাদা করে যদি ওষুধ তৈরি হয়, তাহলে তা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় এক বড় মাইলফলক হবে। শেষ কথা? শুধু গন্ধের ভয়ে আর পিছিয়ে নয়, বেছে নিন পুষ্টির সেরা উৎস। রুই, কাতলা ভালো ঠিকই, তবে নিয়ম করে ভোলা ভেটকি খাওয়া শুরু করুন আজ থেকেই—ডায়াবেটিস ও হার্ট থাকবে নিয়ন্ত্রণে।