ভারতের রফতানি খাত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইতিহাস গড়েছে—মোট রফতানির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে $৮২৪.৯ বিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনায় ৬.০১% বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকির মাঝেও এই সাফল্য ভারতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ।এই বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ভারতের বৈচিত্র্যময় রফতানি কৌশল, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের আওতায় গৃহীত নীতি, এবং সরকারী প্রণোদনা। সেবা খাত যেমন তথ্যপ্রযুক্তি, ফিনটেক ও পর্যটন খাতে ১৩.৬% রফতানি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (MSMEs) টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও প্রকৌশল খাতে ৪০% অবদান রেখেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের হুমকির পর ভারত কৌশলগতভাবে রফতানির গন্তব্য পুনর্বিন্যাস করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করা হয়। EU-এর সঙ্গে বাণিজ্য পৌঁছেছে $১২০ বিলিয়নে, আর মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি বেড়েছে ২৫%। ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ করিডরের মাধ্যমে শিপিং সময় ৪০% কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ চাল। ঐতিহাসিকভাবে ভারত একসময় কৃষিনির্ভর ও রফতানিতে দুর্বল ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন, ও বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানি সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তবে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। MSMEs-এর ডিজিটাল রূপান্তর, সহজ ঋণ প্রাপ্তি, এবং নিয়ন্ত্রন হ্রাসের মতো খাতে সংস্কার দরকার। রুপির মান হ্রাস এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাও ভবিষ্যতের বড় পরীক্ষা হবে। তবুও, বর্তমান রফতানি সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে—ভারত প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে। এই সাফল্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত পরিকল্পনারও প্রতিচ্ছবি। সরকার ও বেসরকারি খাত যদি একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যায়, তবে $১ ট্রিলিয়ন রফতানির লক্ষ্যে পৌঁছানো শুধু সময়ের অপেক্ষা।