আজ বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় যুক্ত হল এক নতুন দিগন্ত। নিউটাউনে শিলান্যাস হল প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির নারায়ণা হাসপাতালের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে বাংলার মানুষও এবার পেতে চলেছেন বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা।ডা. দেবী শেঠি – এই নাম শুধু এক জন চিকিৎসককে বোঝায় না, বোঝায় এক মিশন, এক স্বপ্ন। ২০০১ সালে মাদার টেরেসার অনুপ্রেরণায় তিনি গড়ে তোলেন নারায়ণা হৃদয়ালয়, যা আজ ‘নারায়ণা হেলথ’ নামে ভারতের অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে যার বাজার মূল্য ১৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি। ডা. শেঠির জীবনের মূল মন্ত্র— চিকিৎসা হোক সবার জন্য। অর্থের অভাবে কেউ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে চলেছেন। তাঁর হাসপাতালে বহু দরিদ্র রোগী বিনামূল্যে ওপেন হার্ট সার্জারির মতো জটিল চিকিৎসা পেয়েছেন।
ডা. শেঠি ১৯৮২ সালে কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর যুক্তরাজ্য ও আমেরিকায় কার্ডিয়াক সার্জারিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ১৯৮৯ সালে ভারতে ফিরে আসেন। কলকাতার বিএম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টারে তিনি দেশের প্রথম হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। পরবর্তীতে মণিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও নারায়ণা হেলথের আরও ৩০টির বেশি শাখা হাসপাতাল গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী (২০০৪) এবং পদ্মভূষণ (২০১২) সম্মানে ভূষিত করেছে। টাইম ম্যাগাজিনও তাঁকে বিশ্বের স্বাস্থ্যখাতে ৫০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দিয়েছে। আজ তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯,৮০০ কোটি টাকা। ডা. দেবী শেঠির নারায়ণা হাসপাতাল এবার বাংলার বুকে, এক নতুন আশার আলো নিয়ে আসছে— যেখানে প্রতিটি হৃদয় পাবে যত্ন, আর প্রতিটি জীবন পাবে সম্ভাবনা।