শেষমেষ দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কাঁধেই বঙ্গ বিজেপির সভাপতির ভার তুলে দিল দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একাধারে অভিজ্ঞ, স্পষ্টবাদী এবং দলের পুরনো সৈনিক হিসেবে তাঁর প্রতি বরাবরই আস্থা ছিল দিল্লির মোদী-শাহ শিবিরের।
২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে বাংলার বিধানসভায় বিজেপির প্রথম নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে নজর কেড়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে হার মানতে হয় তাঁকে, কিন্তু তবুও দলের ভরসার জায়গা থেকে একচুলও নড়েননি।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও দমদম কেন্দ্রে তৃণমূলের সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় অধরা থেকে গিয়েছিল। তবু দলের মুখপাত্র হিসেবে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে সক্রিয় থেকেছেন শমীক। দলের অন্যতম সুদক্ষ বক্তা হিসেবে রাজ্য ও কেন্দ্রে বারবার নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
Read more – বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘিরে উত্তেজনা, ফের ধাক্কা ঢাকাকে
২০২৪ সালে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ পদে পাঠায় বিজেপি। সংসদ ভবনে তাঁর প্রশ্নের তীব্রতা সামলাতে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হয়েছে বিরোধীরা। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার আরও বড় দায়িত্বে কাজে লাগাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী কিংবা সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে শমীকের সম্পর্ক কখনও বিতর্কে আসেনি। কখনও দলীয় কোন্দলে প্রকাশ্যে জড়াননি, বরং ঐক্যের বার্তাই দিয়ে গিয়েছেন বারবার।
এই মুহূর্তে, লোকসভা ভোটে রাজ্যে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার পর সংগঠনকে চাঙ্গা করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাজি এবার শমীক ভট্টাচার্য। এখন দেখার, তাঁর নেতৃত্বে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে আগামি বিধানসভা ভোটের আগে।