গ্রীষ্ম বর্ষা মানেই সাপের উপদ্রব। প্রতি বছর এই সময় গ্রাম বাংলায় সাপের ছোবলে প্রাণ হারান অনেকেই। সাপকে ভয় পায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ঘরের ভেতর সাফ ঢুকলে সে যেন এক হূলস্হূল ব্যাপার। তবে জেনে রাখুন যতই ফোঁসফাঁস করুক সাপ আসলে নিরীহ প্রাণী। কিন্তু তার কাছে আত্মরক্ষার অস্ত্র হিসেবে রয়েছে মারাত্মক বিষ। তাই অনেকের কাছেই সাপ বিপজ্জনক প্রাণী।সাপের লেজে পা পড়লে রক্ষে নেই। সেকারণেই মানুষের মধ্যে সাপের আতঙ্ক জিনগত। সকলেই চান সাপ থেকে দূরে থাকতে । অনেকেই এমনভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করেন যাতে সেখানে সাপের আনাগোনা না থাকে।কিন্তু যদি ঘরে কোনও রকমে সাপ ঘরের ভেতর ঢুকেই যায় তাহলে কি করবেন!যাঁরা সাপ ধরায় দক্ষ নিশ্চয়ই তাঁদের খবর দিতে পারেন। কিংবা সাহায্য নিতে পারেন বন দফতরের। তবে অনেকের হাতের কাছে তাঁরা তো নাও থাকতে পারেন। তখন? চলুন কোন উপায়ে নিরাপদে সাপ তাড়ানো যায় তা এই প্রতিবেদনে দেখে নেওয়া যাক।
আপনি বলবেন, জলে গুলে ফিনাইল ছড়ালে সাপ পালাবে। কেউ বলবেন, শুধু কেরোসিনই যথেষ্ট। কাপড়ের পুঁটুলিতে কেরোসিন মাখিয়ে বাড়ির চারপাশে ফেলে রাখলেই চলবে। সত্যিই কি তাই! এমন চোদ্দটি জিনিস আছে যার গন্ধে সাপ পালিয়ে যেতে পারে। সেগুলি কি কি? এর মধ্যে প্রধান হল রসুন এবং পেঁয়াজ।এ ছাড়া রয়েছে, পুদিনা, লবঙ্গ, তুলসী, দারুচিনি, ভিনেগার, লেবু।তাদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী হল অ্যামোনিয়া গ্যাস। অনেক সময শুধু ধোঁয়া দিয়েও সাপ তাড়ানো যায়।আসলে সাপ এই সমস্ত জিনিসের গন্ধকে খুব অদ্ভুত বলে মনে করে।তাই তারা এর থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এই জিনিসগুলি ঘরে রাখলে সাপ আসবে না।অনেকে কার্বলিক অ্যাসিড ছড়ানোর কথাও বলেন। তার ঝাঁঝালো গন্ধে সাপ পালিয়ে যায়। কিন্তু সাপের তো ঘ্রাণশক্তি নেই। তাহলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপের ঘ্রাণ শক্তি অতি দুর্বল। তারা ঘ্রাণের জন্য জিহ্বার সাহায্য নেয়। সাপের ঘ্রাণ অনুভব পদ্ধতিকে ভোমেরোন্যাসাল সিস্টেম বলে। কার্বলিক অ্যাসিড এর ঝাঁজ বাতাসের সংস্পর্শে এসে, সাপের দেহে প্রবেশ করে। তখন সাপের অস্বস্তি হয়। তাই সাপ সেই স্থানটি নিরাপদ নয় বুঝে অন্যদিকে চলে যায়।তবে ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরী। এখানে সেখানে অপ্রয়োজনীয় জিনিস স্তুপাকৃতি করে রাখবেন না। তা সাপের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।মনে রাখবেন, ঘরে ইঁদুরের উৎপাত সাপকে আমন্ত্রন জানায়।